মাওলানা মুহাম্মাদ

ফয়েজউল্লাহ খান

মাওলানা ফয়েজউল্লাহ খান রহ. (ইবনে মাওলানা আবদুল মোমেন খান ইবনে আমির আলী খান ইবনে বাকির মাহমুদ খান ইবনে শামীম খান ইবনে কাসিম খান ইবনে আব্দুল্লাহ খান ইবনে হাজত খান কাবুলি রহিমাহুমুল্লাহ) তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কুমিল্লা জেলার বরুড়া পৌরসভাধীন কসামী উত্তরপাড়া মৌলবিবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ ঈসায়ী…

জন্ম ও বংশ

মাওলানা ফয়েজউল্লাহ খান রহ. (ইবনে মাওলানা আবদুল মোমেন খান ইবনে আমির আলী খান ইবনে বাকির মাহমুদ খান ইবনে শামীম খান ইবনে কাসিম খান ইবনে আব্দুল্লাহ খান ইবনে হাজত খান কাবুলি রহিমাহুমুল্লাহ) তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কুমিল্লা জেলার বরুড়া পৌরসভাধীন কসামী উত্তরপাড়া মৌলবিবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ ঈসায়ী সন মোতাবেক ২৬ ‍ডিসেম্বর, ১৩৭৮ হিজরির ১৫ জুমাদাল আখিরাহ, ১৩৬৫ বাংলার ১১ পৌষ শুক্রবার।
পিতা : মাওলানা আবদুল মমিন খান রহ.।
মাতা: কারিয়া হাজেরা খাতুন। তাঁর মাতা ছিলেন ইবাদাতগুজার মহিয়সী নারী। মহান আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দী। তিনি কিশোর বয়সে তাঁর জন্মদাত্রী মাতাকে হারান। তাঁরা তিন ভাই ও চার বোন ছিলেন। তিনি ছিলেন সবার বড়। পারিবারিক ইতিহাসসূত্রে জানা যায়, ষষ্ঠদশ বা সপ্তদশ শতকে তাঁর পূর্বপুরুষ আফগানিস্তানের নানগাহার/নানগওহার প্রদেশ থেকে ভারত উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারের ‍উদ্দেশ্যে আগমন করেন।

শৈশব

নামকরণের ইতিহাস : তৎকালের প্রখ্যাত আলেমে রব্বানি, যুগশ্রেষ্ঠ মুত্তাকি ব্যক্তিত্ব, মুফতিয়ে আজম, হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান মুফতি, মেখল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুফতি ফয়জুল্লাহ রহমাতুল্লাহির (১৮৯০–১৯৭৬) নামের বরকতের উদ্দেশ্যের প্রতি খেয়াল রেখে তাঁর নাম রাখা হয়।

ব্যক্তিচরিত্র ও আখলাক

প্রাত্যহিক জীবন:

হজরতের দৈনন্দিন জীবন যাপন ছিল খুবই সাদাসিধে। তিনি নিয়মিত যথাসাধ্য নফলিয়াত আদায় করতেন। কুরআন তিলাওয়াত করতেন। বিশেষত, সকালসন্ধ্যায় জরুরি ফজিলতপূর্ণ সুরা তেলাওয়াত, দোয়া—মুনাজাত, মাসনুন অজিফা পাঠে একান্ত মনোযোগী ছিলেন। সুস্থ অবস্থায় শেষরাতে জায়নামাজে রোনাজারি ছিল অতি পসন্দের।
শুক্রবারে সুরা কাহাফ তেলাওয়াতে নিজে ছিলেন অগ্রগামী এবং উপস্থিত সবাইকে এর ওপর আমল করার বিশেষ তাকিদ করতেন। সবসময় মাদরাসার তালেবুলইলমদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা ছিল 'ইজতেমায়ি'দোয়ায় শরিক থাকা ও সকালসন্ধ্যা কুরআন তেলাওয়াত করার। যেন আমলি কোন সুরা ছুটে না যায়। সব হালতে সবশ্রেণির মানুষের খায়রিয়াত চাইতেন। আল্লাহর সন্তুষ্টিই ছিল জীবনের পরম আরাধ্য।

ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার

প্রাত্যহিক জীবন:

হজরতের দৈনন্দিন জীবন যাপন ছিল খুবই সাদাসিধে। তিনি নিয়মিত যথাসাধ্য নফলিয়াত আদায় করতেন। কুরআন তিলাওয়াত করতেন। বিশেষত, সকালসন্ধ্যায় জরুরি ফজিলতপূর্ণ সুরা তেলাওয়াত, দোয়া—মুনাজাত, মাসনুন অজিফা পাঠে একান্ত মনোযোগী ছিলেন। সুস্থ অবস্থায় শেষরাতে জায়নামাজে রোনাজারি ছিল অতি পসন্দের।
শুক্রবারে সুরা কাহাফ তেলাওয়াতে নিজে ছিলেন অগ্রগামী এবং উপস্থিত সবাইকে এর ওপর আমল করার বিশেষ তাকিদ করতেন। সবসময় মাদরাসার তালেবুলইলমদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা ছিল 'ইজতেমায়ি'দোয়ায় শরিক থাকা ও সকালসন্ধ্যা কুরআন তেলাওয়াত করার। যেন আমলি কোন সুরা ছুটে না যায়। সব হালতে সবশ্রেণির মানুষের খায়রিয়াত চাইতেন। আল্লাহর সন্তুষ্টিই ছিল জীবনের পরম আরাধ্য।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে যান। পুত্রদ্বয়: নেয়ামতউল্লাহ খালিদ (খালিদ খান); সাইফুল ইসলাম খান (সাইফ)
কন্যাদ্বয় হল— উম্মেহানি তামান্না; উম্মে আফিফ সুমাইয়া

মৃত্যু

ইনতেকালের কয়েক বছর আগ থেকে ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ছিলেন ।
'২৪ ঈসায়ী সনের রমজানের ঈদের পর হজরতের স্বাস্থের অস্বাভাবিক অবনতি ঘটতে থাকে। সময়মতো আর মাদরাসায় হাজির হতে পারেননি। কয়েক দফা ডাক্তার দেখিয়েও তেমন সুফল আসেনি। ক্রমশ অবনতির দিকে চলে যায় শরীর। পা ফুলে উঠে। ক্ষুধামন্দা ঘটে। একসময় জানা যায় তাঁর কিডনী কার্যক্ষমতা হারিয়েছে প্রায়। চিকিৎসার সুবিধার্থে কুমিল্লাশহরে হাসপাতালের কাছে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর, বিগত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, বুধবার সকাল ১১: ৪০ এ মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এই নশ্বর দুনিয়া থেকে তিনি বিদায় নেন।
তাঁর ইনতেকালে মাদরাসার ছাত্র উসতাদসহ সাকতা এবং নিকটবর্তী গ্রামের মুহিব্বিন ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে হৃদয়বিদারক শোকসন্তাপ ছড়িয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র

  1. আল-ফয়েজ স্মরণিকা: প্রকাশনায়— আলফয়েজ ছাত্র কাফেলা। লেখক: আবু জারির খান। ২০২৪।

শেষ হালনাগাদ: ১ নভেম্বর, ২০২৬

একই শতাব্দীর আলেম